২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশ ও প্রবাসে অবস্থানরত সকল বাংলাদেশিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। স্বাধীনতার ৫৫তম বর্ষপূর্তিতে বুধবার (২৫ মার্চ) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এই শুভেচ্ছা জানান। বাণীতে তিনি দিবসটিকে বাঙালির ইতিহাসে এক অনন্য গৌরবময় ও আত্মমর্যাদার দিন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি স্বাধীনতার মূল চেতনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল বীর শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি সেইসব নির্যাতিত বীরাঙ্গনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান, যাদের ত্যাগ ও সাহসিকতা জাতীয় ইতিহাসকে মহিমান্বিত করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন যে, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা কেবল একটি ভূখণ্ড অর্জন ছিল না; এটি ছিল ন্যায়, সাম্য, গণতন্ত্র ও মানবিক মর্যাদার ভিত্তিতে একটি রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার। তবে স্বাধীনতার এত বছর পরও সেই অঙ্গীকারগুলো আজও পূর্ণ বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। গণতন্ত্রের পথচলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, বিভিন্ন সময়ে জাতির ওপর স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের অন্ধকার শাসন চাপিয়ে দিয়ে গণতন্ত্রের স্বাভাবিক ধারাকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। রাষ্ট্রকে দুর্বল করে বিদেশি শক্তির কাছে নতজানু করার নানামুখী অপচেষ্টা চললেও এদেশের মানুষ কখনো পরাজয় মানেনি। অধিকার, মর্যাদা ও স্বাধীনতার প্রশ্নে সাধারণ জনতা বারবার জেগে উঠেছে। বিশেষ করে চব্বিশের জুলাই ও আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে হাজারো শহীদের আত্মদানের মাধ্যমে জাতি স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি পেয়েছে এবং এর ফলে গণতান্ত্রিক অধিকার ও জাতীয় আত্মমর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে এনসিপির আহ্বায়ক একটি জবাবদিহিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন। তিনি জানান, দুর্নীতি, অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান নিয়ে একটি আধুনিক, উন্নত ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার পথে তারা এগিয়ে যাবেন, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা সমানভাবে নিশ্চিত থাকবে।
নতুন প্রজন্মের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত আকাঙ্ক্ষা হৃদয়ে ধারণ করে সত্য, ন্যায়, সাহস ও দেশপ্রেমের আদর্শে নিজেদের তৈরি করতে হবে। বর্তমান প্রজন্মের হাত ধরেই আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ রচিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


