১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
|
পূর্বাহ্ণ ০২:০৩, ৩০ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অর্থ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ সময়ে ভেঙে পড়া রাষ্ট্রকাঠামোর সবচেয়ে সংকটাপন্ন খাতগুলোর একটি ছিল শিক্ষা।

তিনি বলেন, তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে যে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে’র মাধ্যমে দেশ আজ গণতান্ত্রিক পথে ফিরে এসেছে, সেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমাদের অবশ্যই এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা সৎ, যোগ্য, দক্ষ এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতের বাজেট বরাদ্দ ঘোষণার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষা খাতকে পুনর্গঠনের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতকে এবারের বাজেটে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। এই লক্ষ্যে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতে রেকর্ড ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে প্রধান অগ্রাধিকারভুক্ত খাতগুলোর মধ্যে শিক্ষা খাতকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, শিক্ষা খাতে এসব লক্ষ্যে বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সামগ্রিক শিক্ষা কারিকুলামকে সম্পূর্ণ রূপান্তরের যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছেন। নতুন এই রূপান্তরের মূল উদ্দেশ্য হলো—শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়িত্ববোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং মানবিক চরিত্রের দৃঢ় বিকাশ ঘটানো।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী জানান, বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ছিল ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা, যা ছিল জিডিপি’র ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ। আগামী অর্থবছরের জন্য এই বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা জিডিপির ২ শতাংশ। এছাড়া পর্যায়ক্রমে শিক্ষা খাতে সরকারি বিনিয়োগ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি করে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version