২৫ বছর আগে পহেলা বৈশাখে ঢাকার রমনা বটমূলে সংঘটিত ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোর মধ্যে হত্যা মামলার বিচার শেষ হলেও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলাটি এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। দীর্ঘ সময় পার হলেও বিচার কার্যক্রম পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিস্ফোরক আইনের মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ ২০২২ সালের ২১ মার্চ শেষ হয়। মোট ৮৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৫৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এরপর আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যায়ে এসে বিচার কার্যক্রম থেমে যায়। আসামিদের আদালতে হাজির না করায় বারবার শুনানির তারিখ পেছানো হচ্ছে।
সর্বশেষ গত ৩১ মার্চ আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য দিন ধার্য থাকলেও তারা বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার থাকায় আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৯ জুলাই নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন। বর্তমানে মামলাটি ঢাকা মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১৫-তে বিচারাধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের সকালে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে দুটি বোমা বিস্ফোরণে ১০ জন নিহত ও বহু মানুষ আহত হন। এ ঘটনায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। হামলার পরদিনই হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়।
পরবর্তীতে ২০০৮ সালে মুফতি আবদুল হান্নানসহ ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২০১৪ সালে হত্যা মামলায় আটজনের মৃত্যুদণ্ড ও ছয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে হাইকোর্টে কিছু আসামির সাজা কমানো হয়।
অন্যদিকে, বিস্ফোরক আইনের মামলাটিতে এখনো ১১ জন আসামি রয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন পলাতক, কয়েকজন জামিনে এবং বাকিরা কারাগারে আটক রয়েছেন। আসামিদের অনুপস্থিতি, সাক্ষী সংকট এবং আইনি জটিলতার কারণে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় পড়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছে, দীর্ঘদিনের এই মামলার বিচার দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে আসামিপক্ষ দাবি করছে, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং সুষ্ঠু বিচার হলে তারা খালাস পাবেন।
দীর্ঘ ২৫ বছর পরও এই নৃশংস হামলার একটি মামলার বিচার ঝুলে থাকায় ন্যায়বিচার নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

