সুন্দরবনের জয়মনির ঘোল এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ কোস্টগার্ড স্টেশনে হামলা চালিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত। এ সময় দায়িত্বরত কয়েকজন কোস্টগার্ড সদস্য আহত হন। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে যৌথ অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড।বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বনদস্যু দমন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং উপকূলীয় অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে। চুরি, ডাকাতি ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং অভিযান পরিচালনা করা হয়। মোংলা থানার জয়মনির ঘোল এলাকা দীর্ঘদিন ধরে বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এ কারণে সেখানে কোস্টগার্ড স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। স্টেশনটি স্থাপনের পর বনদস্যুদের রসদ, অস্ত্র ও লজিস্টিক সহায়তা সরবরাহের পথ অনেকাংশে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
কোস্টগার্ডের দাবি, বৃহস্পতিবার জয়মনির ঘোল স্টেশনে দুর্বৃত্তরা অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, প্রাথমিক তথ্য ও স্থানীয় পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ও অসাধু চক্র নিজেদের অপকর্ম পরিচালনার সুবিধার্থে কোস্টগার্ডকে ওই এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে হামলা, ভাঙচুর, অপপ্রচার এবং বিভ্রান্তিমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। এই ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন কোস্টগার্ডের এই কর্মকর্তা।
ফলে বনদস্যু ও তাদের সহযোগীরা এলাকায় কোস্টগার্ডের উপস্থিতি মেনে নিতে পারছে না।


