১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
|
পূর্বাহ্ণ ০৫:৫৪, ৩০ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন পেট্রলপাম্পে জ্বালানি তেল কিনতে ক্রেতাদের অস্বাভাবিক ভিড় দেখা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য জ্বালানিসংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই আগেভাগে বেশি করে তেল সংগ্রহ করতে পাম্পে ভিড় করছেন। এতে কোথাও কোথাও তেলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে বিক্রি বন্ধ রাখার ঘটনাও ঘটেছে।

তবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং নিয়মিতভাবে বিদেশ থেকে তেল আমদানি করা হচ্ছে। তাই গুজবে কান না দিয়ে অপ্রয়োজনে জ্বালানি মজুদ না করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

রাজধানীর মিরপুর, তেজগাঁও, গাবতলী, আসাদগেটসহ বিভিন্ন এলাকায় পেট্রলপাম্পে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। অনেক চালক আগে যেখানে অল্প পরিমাণ তেল নিতেন, এখন তারা পুরো ট্যাংক ভরে নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন পাম্প সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার জ্বালানি তেল কেনায় সাময়িক সীমা নির্ধারণ করেছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, একটি মোটরসাইকেল দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন নিতে পারবে। ব্যক্তিগত গাড়ি নিতে পারবে ১০ লিটার, এসইউভি বা মাইক্রোবাস ২০ থেকে ২৫ লিটার, পিকআপ বা লোকাল বাস ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল এবং দূরপাল্লার বাস ও ট্রাক দিনে ২০০ থেকে ২২০ লিটার পর্যন্ত তেল নিতে পারবে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দেশে বর্তমানে বড় কোনো জ্বালানি সংকট নেই। তবে সবাইকে জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে গ্যাস সংকট মোকাবিলায় পেট্রোবাংলা স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গ্যাস সরবরাহে রেশনিং শুরু হওয়ায় আগামী সপ্তাহ থেকে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গুজবের কারণে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল কেনা হলে সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হতে পারে। তাই অযথা আতঙ্ক না ছড়িয়ে স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version