১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
|
পূর্বাহ্ণ ০৫:১০, ৩০ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযানের গুঞ্জন চললেও তেহরান এ নিয়ে বিন্দুমাত্র ভীত বা চিন্তিত নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি। শুক্রবার (৬ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, ‘আমরা মার্কিন স্থলবাহিনীর জন্য অপেক্ষা করছি।’

আরাঘচি দাবি করেন, ইরান যেকোনো স্থল আক্রমণ মোকাবিলা করার পূর্ণ সক্ষমতা রাখে এবং যুক্তরাষ্ট্রের এমন কোনো পদক্ষেপ ওয়াশিংটনের জন্য একটি বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে। তাঁর এই কঠোর মন্তব্য চলমান সংঘাতের উত্তাপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি সাক্ষাৎকারে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, ওয়াশিংটনকে যুদ্ধবিরতির কোনো প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা তেহরানের নেই। এমনকি গত বছরের জুন মাসে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যখন ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলেছিল, তখনও ইরান নিজে থেকে কোনো সন্ধি বা যুদ্ধবিরতির কথা বলেনি।

আরাঘচির মতে, সে সময়ও হামলাকারী দেশ ইসরায়েলই প্রথম যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিতে বাধ্য হয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি জেনেভায় পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সংলাপের সময় তারা একটি আসন্ন যুদ্ধের পূর্বাভাস পেয়েছিলেন, কিন্তু ইরান শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পিছু হটার বা কোনো সমঝোতামূলক প্রস্তাব দেওয়ার কথা ভাবেনি।

উল্লেখ্য যে, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ২১ দিন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নিবিড় আলোচনা চলেছিল। কিন্তু কোনো প্রকার সমঝোতা বা চুক্তি ছাড়াই গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সেই সংলাপ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।

এর ঠিক পরের দিন অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে। একই সময়ে ইসরায়েলও ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগ দিয়ে ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। এই অভিযানের ফলে বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে এক ভয়ংকর যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

আজ শুক্রবার পর্যন্ত ইরানে এই যুদ্ধের ষষ্ঠ দিন অতিবাহিত হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত ছয় দিনের অব্যাহত হামলায় ইরানে ইতিমধ্যে প্রায় ১ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং ৫ হাজারের বেশি মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন।

এমন এক বিধ্বংসী পরিস্থিতিতেও ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে অনড় থেকে জানিয়েছেন যে, তাঁরা কোনো চাপে নতি স্বীকার করবেন না। বরং স্থলযুদ্ধ শুরু হলে মার্কিন বাহিনীকে এক চরম শিক্ষা দেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। তেহরানের এই অনমনীয় মনোভাব মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতাকে এক দীর্ঘমেয়াদী সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version