পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে কার্যালয় ভাঙচুর ও মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অ্যাডিশনাল এসপিসহ ১৫ জন আহত হয়েছে। তাদের রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল এবং ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানায়, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থক ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থকদের মধ্যে তাদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ইট ও পাথরের আঘাতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০-৩৫ নেতাকর্মী ও সমর্থক আহত হয়েছেন। উত্তেজিতরা দুটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে। পরে তারা শহরের পোস্ট অফিস মোড়স্থ বিএনপির এক পক্ষের কার্যালয়ে থাকা প্লাস্টিকের চেয়ার ভাঙচুর করেছে। আহতরা ঈশ্বরদী উপজেলা ও পাবনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে নুরে আলম শ্যামলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি সূত্র জানায়, চাঁদরাতে হাবিবুর রহমান হাবিবের পক্ষের পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরুল কায়েস সুমন ও নুরে আলম শ্যামল ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জাকারিয়া পিন্টু গ্রুপের পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪ নং ওয়ার্ড শাখার আহবায়ক আব্দুল্লাহ রউফ আব্দুলকে মারাক্তক জখম করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আব্দুলের পক্ষের লোকজন উত্তেজিত হয়ে হামলাকারীদের কয়েকজনের বাড়ি ঘর ভাঙচুর করে।
এরপর পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরুল কায়েস সুমন লোকজন দিয়ে নিজের কার্যালয় ভাঙচুর করে। এই বিষয়ে জাকারিয়া পিন্টুর ছোট ভাই উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসানকে দোষারোপ করে ঈশ্বরদী থানায় একটি মামলা করেন। একই সঙ্গে হাবিবুর রহমান হাবিবের পক্ষে যুবদলের নেতা পরিচয়ে জোবায়ের হোসেন ওরফে হুব বাপ্পি বিভিন্ন লোকজনকে ম্যানেজ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জাকারিয়া পিন্টু, তার ছোট ভাই জুয়েল, সোনা মনি ও মেহেদী হাসানকে সন্ত্রাসী উল্লেখ করে বিষোদগার করে আসছেন। এর প্রতিবাদে আজ সকালে জাকারিয়া পিন্টু গ্রুপ মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে শহরের রেলগেট থেকে একটি বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল বের করে। মিছিল শেষে তারা ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তাদের বিরুদ্ধে করা অপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।

