পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে আগেভাগেই ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন নগরবাসী। ঈদের ছুটি শুরু হলে বাড়তি চাপের আশঙ্কায় অনেকেই আগে থেকেই গ্রামের পথে রওনা হচ্ছেন। এতে রাজধানীর দূরপাল্লার বাস কাউন্টার ও টার্মিনালগুলোতে বেড়েছে যাত্রীদের ভিড়।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে গাবতলী ও কল্যাণপুর বাস কাউন্টার এলাকায় ঘরমুখী মানুষের ভিড় দেখা যায়। সকাল থেকেই কল্যাণপুর থেকে গাবতলী অভিমুখে যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় সড়কে ধীরগতিতে যান চলাচল করতে দেখা গেছে। যানজট এড়াতে বিভিন্ন মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
বাস কাউন্টারগুলোতে যাত্রীরা টিকিটের খোঁজে এক কাউন্টার থেকে আরেক কাউন্টারে ঘুরছেন। পরিবহন শ্রমিকরা যাত্রীদের ডাকছেন, ব্যস্ত সময় পার করছেন কাউন্টার মাস্টাররাও।
সোহাগ পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার মেহেদী হাসান জানান, যাত্রীচাপ ভালো। অনেকে অনলাইনে টিকিট কেটে নির্ধারিত সময়ে কাউন্টারে আসছেন। সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত তাদের দুটি বাস ছেড়ে গেছে।
হানিফ এন্টারপ্রাইজের কাউন্টার মাস্টার জুয়েল বলেন, সকাল থেকেই যাত্রীচাপ রয়েছে। সাড়ে ৮টা পর্যন্ত চারটি বাস ছেড়ে গেছে, কোনো বাসই ফাঁকা যায়নি।
যাত্রী হুমায়ুন শেখ বলেন, অফিসে এখনো কয়েক দিন কাজ আছে। পরে ছুটি হলে টিকিট পাওয়া কঠিন হয়ে যায়, তাই পরিবারের সদস্যদের আগেই বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছেন।
এদিকে ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশ থানার ইনচার্জ শ্রী কৃষ্ণপদ শর্মা জানান, ঈদকে সামনে রেখে ৮২ জন পুলিশ সদস্য মহাসড়কে মোতায়েন থাকবেন।
অন্যদিকে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনেও ঈদ যাত্রার প্রথম দিন থেকেই যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। সকাল থেকেই যাত্রীরা প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে স্টেশনে হাজির হচ্ছেন। প্ল্যাটফরমে অপেক্ষমাণ মানুষের চোখে-মুখে বাড়ি ফেরার আনন্দ দেখা গেছে।
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার সাজেদুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক রয়েছে। ট্রেনগুলো সময়মতো ছাড়ার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তায় রেলওয়ে পুলিশ, র্যাব ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

