এবারও সুযোগ হলো না নেইমারের। মার্চে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের জন্য ঘোষিত দলে জায়গা হয়নি ব্রাজিলের জার্সিতে সর্বোচ্চ গোল করা এই তারকার। নেইমার স্বীকার করেছেন, উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সেলেসাওদের আসন্ন প্রীতি ম্যাচগুলোর দলে সুযোগ না পেয়ে তিনি হতাশ। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন এখনো বেঁচে আছে।ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি সোমবার (১৬ মার্চ) ইউরোপিয়ান প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচের জন্য দল ঘোষণা করেন। সেখানে ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডকে আবারও বাদ দেওয়া হয়। দল ঘোষণা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে নেইমার বলেন, তিনি কষ্ট পেয়েছেন, তবে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন।

নেইমার বলেন, ‘আমি এ নিয়ে কথা বলব, কারণ চুপ করে থাকতে পারি না। অবশ্যই আমি দুঃখিত এবং হতাশ যে দলে ডাক পাইনি।’

তিনি আরও বলেন, এখন তার মূল লক্ষ্য প্রতিদিনের অনুশীলন এবং ম্যাচে নিজের পারফরম্যান্স উন্নত করা।নেইমার যোগ করেন, ‘প্রতিদিন, প্রতিটি ট্রেনিং, প্রতিটি ম্যাচ, আমাদের লক্ষ্য অর্জন করবই। বিশ্বকাপের আগে এখনো একটি শেষ সুযোগ আছে দলে ফেরার, আর আমার স্বপ্ন এখনো বেঁচে আছে।’

আগামী ২৬ মার্চ ফ্রান্সের বিপক্ষে বোস্টনে এবং ৩১ মার্চ ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে অরল্যান্ডোতে খেলবে। এই ম্যাচগুলোই বিশ্বকাপের আগে খেলোয়াড়দের নিজেদের প্রমাণ করার শেষ সুযোগ হিসেবে ধরা হচ্ছে।নেইমারকে দলে না রাখার মূল কারণ তার ফিটনেস নিয়ে শঙ্কা। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ব্রাজিলের হয়ে খেলতে গিয়ে গুরুতর হাঁটুর চোট (এসিএল ও মেনিস্কাস) পান তিনি। চোট কাটিয়ে ফিরলেও এখনো নিয়মিত খেলার ধারাবাহিকতা পাচ্ছেন না।

সম্প্রতি সান্তোসের হয়ে করিন্থিয়াসের বিপক্ষে ১-১ ড্র ম্যাচে পুরো ৯০ মিনিট খেলেছেন নেইমার। তবে মোট খেলার সময় এখনো সীমিত, এমনকি মিরাসলের বিপক্ষে আগের ম্যাচে তাকে বিশ্রামও দেওয়া হয়।

ব্রাজিল কোচ আনচেলত্তি স্পষ্ট করে বলেন, নেইমারের বাদ পড়া পুরোপুরি ফিটনেসের কারণে।

তিনি বলেন, ‘নেইমার এখনো ১০০ শতাংশ ফিট নয়, তাই সে দলে নেই। যদি সে পুরোপুরি ফিট হতে পারে, তাহলে অবশ্যই দলে থাকার সুযোগ আছে।’

তিনি আরও যোগ করেন, নেইমারকে তার ফুটবল দক্ষতা প্রমাণ করতে হবে না, বরং শারীরিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত হওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।বর্তমানে ব্রাজিল দলে আক্রমণভাগে আছেন ভিনিসিউস জুনিয়র, রাফিনিয়া, জোয়াও পেদ্রো, মাতেউস কুনিয়া এবং তরুণ প্রতিভা এন্দরিক।

সব মিলিয়ে, ১৮ মে চূড়ান্ত বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণার আগে আগামী দুই মাস নেইমারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি যদি এই সময়ে নিয়মিত খেলতে পারেন এবং ফিটনেস ফিরে পান, তাহলে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নেওয়ার সম্ভাবনা এখনো রয়েছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version