ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা Zero Carbon Analytics-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি ব্যয় প্রায় ৪.৮ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি।
বিশ্ববাজারে তেল, গ্যাস ও কয়লার দাম বাড়ার ফলে এই ব্যয় দেশের জিডিপির প্রায় ১.১ শতাংশের সমান হতে পারে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ বাড়বে এবং আমদানি সক্ষমতা কমে যেতে পারে।
এর আগে Russia-Ukraine War চলাকালেও জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে। বর্তমানে একই ধরনের পরিস্থিতি আবারও তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে Strait of Hormuz দিয়ে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে।
এদিকে কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়া এবং তেলবাহী জাহাজ বিলম্বিত হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় লোডশেডিং বেড়েছে এবং শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশ বারবার বৈশ্বিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ধীরগতির অগ্রগতি এই সমস্যাকে আরও জটিল করছে।

