দেশজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় লোডশেডিং পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। এপ্রিলের শুরু থেকেই বিদ্যুতের ঘাটতি বাড়তে শুরু করেছে, যা মে–জুনে আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা যায়, দেশে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৫ থেকে ১৬ হাজার মেগাওয়াট হলেও উৎপাদন হচ্ছে ১৩ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। ফলে প্রতিদিন ১ থেকে ২ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত ঘাটতি থাকছে। পিক আওয়ারে এই ঘাটতি আরও বেড়ে যায় এবং লোডশেডিং ২ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রয়েছে এবং তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে আবাসিক, কৃষি ও শিল্প খাতে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে গেছে। বিশেষ করে বোরো মৌসুমে সেচ কার্যক্রম এবং গরমে শীতলীকরণ যন্ত্রের ব্যবহারে চাপ বেড়েছে।

অঞ্চলভেদে লোডশেডিংয়ের চিত্রেও বৈষম্য দেখা যাচ্ছে। ঢাকায় তুলনামূলক কম লোডশেডিং হলেও বরিশাল, রাজশাহী, খুলনা ও গ্রামীণ এলাকাগুলোতে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার ঘটনা ঘটছে। এতে কৃষি উৎপাদন, ক্ষুদ্র শিল্প ও ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছে না। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান দিন দিন বাড়ছে, যা সামনের গ্রীষ্মে আরও বড় সংকট তৈরি করতে পারে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version