এবারের স্বাধীনতা দিবস এক স্বস্তিকর পরিবেশে উদযাপিত হতে যাচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির পরাজয়ের মধ্য দিয়ে দেশ আবারও একাত্তরের চেতনার দিকে ফিরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
গত দেড় বছরে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী চিন্তাধারার পুনরুত্থান অনেককে উদ্বিগ্ন করে তোলে। একাত্তরকে পাশ কাটিয়ে নতুন ইতিহাস দাঁড় করানোর চেষ্টা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে বিতর্ক—এসবই জাতিকে বিভ্রান্ত করেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য এটি ছিল হতাশা ও ক্ষোভের সময়।
অনেকে ভেবেছিলেন, নতুন প্রজন্ম হয়তো অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশকে এগিয়ে নেবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, একাত্তরকেই অস্বীকার করার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। অথচ বাংলাদেশের জন্মই ১৯৭১ সালে—এই ইতিহাস অস্বীকার করা মানে দেশের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করা।
১৯৭১ সালের মার্চের ঘটনাপ্রবাহ, ২৫ মার্চের গণহত্যা এবং পরবর্তী সময়ে স্বাধীনতার ঘোষণা—সব মিলিয়ে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ ছিল অবশ্যম্ভাবী। সেই দুঃসময়ে স্বাধীনতার আহ্বান মানুষকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করে এবং একটি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করা হয়েছে, যা অপ্রয়োজনীয় এবং বিভাজন সৃষ্টি করে। স্বাধীনতার চেতনা কোনো ব্যক্তির একার নয়—এটি একটি জাতির সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও ঐক্যের ফল।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দেশের অবস্থান রক্ষায় ভূমিকা রাখলেও অভ্যন্তরীণ শাসনে নানা সমালোচনার মুখে পড়ে। তবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে তারা ক্ষমতা হস্তান্তর করে, যা গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক।
নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের পর দেশের মানুষ আশা করছে—গণতান্ত্রিক ধারা শক্তিশালী হবে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আরও সুসংহত হবে।
একাত্তরের শহীদ এবং সাম্প্রতিক আন্দোলনে আত্মদানকারীদের প্রতি সত্যিকারের শ্রদ্ধা জানানো হবে তখনই, যখন দেশ ন্যায়, গণতন্ত্র ও মানবিকতার পথে এগিয়ে যাবে।
বাংলার মানুষ আজও বিশ্বাস করে—
এই দেশ একাত্তরের, এই ইতিহাস অমোচনীয়।

