যে প্রতিশ্রুতি একসময় আশার আলো দেখিয়েছিল, আজ সেটিই হয়ে উঠেছে চরম হতাশার কারণ। গত বছরের রমজান মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এসে আশ্বাস দিয়েছিলেন তারা আগামী ঈদ দেশে করতে পারবে।
কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের পর জাতিসংঘের মহাসচিবকে নিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইফতারে বসে ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই আশ্বাস দিয়েছিলেন। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় রোহিঙ্গাদের তিনি বলেছিলেন, ‘এই ঈদত পাইত্যাম ন, আল্লাহর কাছে দোয়া গরি সামনার বার য্যান অনরা নিজের বাড়িত যাইয়্যেরে ঈদ গরিত পারন।
অর্থাৎ এই ঈদে (২০২৫) পারব না, আল্লাহর কাছে কামনা করি, সামনের বারের ঈদ (২০২৬) যেন আপনারা নিজ দেশের ঘরে ফিরে করতে পারেন।]
কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি এখন শুধু কথার ফুলঝুড়িতেই আটকে আছে। রোহিঙ্গাদের তো নিজ দেশে ফেরানো যায়ইনি, উল্টো নতুন করে দেড় লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে। তাই ড. ইউনূসের সেই প্রতিশ্রুতি এখন ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের খোরাকে পরিণত হয়েছে। সেই বক্তব্যের ভিডিও নিয়ে বিভিন্নজনের টক শো ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রলের শিকার হচ্ছেন তিনি।
গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও বিশ্লেষক ডা. আব্দুন নূর তুষার এক আলোচনায় বলেন, ‘গত বছর সরকারি টাকা খরচ করে রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরানোর মিথ্যা আশ্বাস দিয়েছিলেন ড. ইউনূস। এবার রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ঈদ করা উচিত তাঁর।’
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মনিরুজ্জামান নামের একজন মন্তব্য করেছেন, মুহাম্মদ ইউনূস ১৮ মাস দায়িত্বে থেকেও রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেননি।
অথচ বড় বড় আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে প্রায় প্রতিদিনই মায়ানমারের রাখাইন (আরাকান) থেকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ঢুকছে রোহিঙ্গার দল। সর্বশেষ গত সোমবার ভোরে ১০ জন ঢুকে আশ্রয় নিয়েছে উখিয়ার জামতলী ১৫ নম্বর ক্যাম্পে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পটির শেড মাঝি (রোহিঙ্গা নেতা) মোহাম্মদ সলিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ক্যাম্পগুলোতে বাংলাদেশ সরকার নিয়োজিত শেড মাঝিরা বলছেন, প্রায় প্রতিদিনই রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে।

