সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশসীমায় ইরানের ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে ফ্রান্সের বিমানবাহিনী তাদের অত্যাধুনিক ‘মিকা’ (MICA) আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র সংকটের মুখে পড়েছে। ফরাসি সংবাদমাধ্যম লা ট্রিব্যুনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমিরাতের আকাশে রাফাল যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে লাগাতার ইরানি ড্রোন ধ্বংস করার অভিযানে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। অভিযানের এই উচ্চ গতির কারণে ফরাসি প্রতিরক্ষা মহলে এখন বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্যারিস এখন কীভাবে চলমান মিশনগুলো সচল রেখে নিজেদের দীর্ঘমেয়াদী সামরিক সক্ষমতা বজায় রাখবে, তা নিয়ে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে জরুরি আলোচনা শুরু হয়েছে।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান লক্ষ্য করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলার পর থেকেই পুরো মধ্যপ্রাচ্য রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। সেই অভিযানে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এ

ই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে তেহরান ব্যাপক হারে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক এবং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ও পশ্চিমা সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। ইরানের এই মুহুর্মুহু ড্রোন হামলা মোকাবিলায় ফরাসি রাফাল জেটের পাইলটদের প্রতিনিয়ত ‘মিকা’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হচ্ছে, যার ফলে দেশটির সামরিক ভাণ্ডারে টান পড়েছে।ফরাসি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্র সংকট ফ্রান্সের কৌশলগত সক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে ফ্রান্সকে তাদের নিজস্ব মজুদ থেকে বড় একটি অংশ ব্যয় করতে হচ্ছে।

ইরানি ড্রোনগুলোর পাল্লা ও সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এই সংঘাত কেবল যুদ্ধের ময়দানেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি বিশ্ববাজার ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল ব্যবস্থাতেও বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। এমন অবস্থায় নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও সরবরাহের গতি বাড়ানো না গেলে ফরাসি বাহিনী বড় ধরনের চাপে পড়তে পারে।

বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান-বিরোধী জোটে ফ্রান্স অন্যতম সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করছে। তবে ড্রোন ইন্টারসেপশনের এই ব্যয়বহুল ও দীর্ঘমেয়াদী লড়াইয়ে ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি প্যারিসের জন্য একটি বড় কৌশলগত মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

লা ট্রিব্যুনের তথ্যমতে, এই সংকট কাটিয়ে উঠতে ফ্রান্স তাদের ইউরোপীয় মিত্রদের কাছ থেকে সহায়তা চাওয়া বা দ্রুত নতুন অর্ডারের কথা ভাবছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি কেবল সামরিক শক্তির লড়াই নয়, বরং অস্ত্রের ভাণ্ডার সচল রাখার সক্ষমতারও একটি বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version