মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট ও মূল্য বাড়তে পারে এমন আশঙ্কায় চট্টগ্রামের ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল কেনার হিড়িক পড়েছে। চালকরা তাদের গাড়ির ট্যাংক পূর্ণ করে তেল নিচ্ছেন। কোনও কোনও ফিলিং স্টেশনে আধা কিলোমিটার পর্যন্ত যান বাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। এ কারণে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে মজুত তেল।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নগরের হাটহাজারী সড়কের পাঁচলাইশ থানাধীন আতুরার ডিপো এলাকায় অবস্থিত এম আই ভি সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশনে শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকাল সাড়ে ৩টায় গিয়ে দেখা গেছে, পাম্পটিতে তেল দেওয়া বন্ধ রেখেছে। দুই পাশে রশি টেনে যানবাহন প্রবেশ বন্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ।

এ পাম্পে কর্মরত এক শ্রমিক জানান, তেল ফুরিয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সন্ধ্যা থেকে তেল নেওয়ার জন্য গাড়ির চাপ বেশি ছিল। এ কারণে তেল শেষ। তেলের অর্ডার দেওয়া হয়েছে। আসার পর পুনরায় তেল দেওয়া চালু হবে।

তবে নগরের গণি বেকারি মোড়ে অবস্থিত ফিলিং স্টেশন কিউ সি ট্রেডিং লিমিটেডে গিয়ে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। এ ফিলিং স্টেশন থেকে তেল কেনার জন্য যানবাহনের অন্তত আধা কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।

এ ফিলিং স্টেশনের কর্মকর্তা মনির বলেন, ‘আমাদের কাছে তেলের সংকট নেই। দামও বাড়েনি। তেলের সংকট হবে এ ধরনের কোন তথ্য আমাদের কাছে নেই। এরপরও মানুষ কেন তেল কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে তা বুঝতেছি না।’

কিউ সি ট্রেডিং লিমিটেড-এ তেল কিনতে লাইনে দাঁড়ানো এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, ‘টিভি-পত্রিকায় দেখেছি ইরান যুদ্ধের কারণে দেশে তেল আসছে না। দেশে যা আছে তাও দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে কয়েকদিনের জন্য তেল নিতে এসেছি।’

এ প্রসঙ্গে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ম্যানিজেং ডিরেক্টর শাহীরুল হাসান বলেন, ‘আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত তেল মজুত আছে। তেল কেনার জন্য হুড়োহুড়ি করার প্রয়োজন নেই। আশা করছি, সরকার বিষয়টি নিয়ে নির্দেশনা দেবে।’

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version