জ্বালানিসংকটের কারণে রাজধানীতে গণপরিবহন ব্যবস্থায় তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, যা জনজীবনে মারাত্মক ভোগান্তি সৃষ্টি করেছে। শাহবাগ, বাংলামোটরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ বাসের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়া এবং পাম্পে দীর্ঘ লাইনের কারণে প্রায় ২০-২৫ শতাংশ বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, জ্বালানি সংগ্রহ করতে গিয়ে চালকদের প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা সময় নষ্ট হচ্ছে, ফলে বাসের ট্রিপ সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এতে রাস্তায় বাসের সংখ্যা কমে গিয়ে প্রতিটি বাসে অতিরিক্ত যাত্রী চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। আগে যেখানে নিয়মিত একাধিক বাস চলত, এখন সেখানে দীর্ঘ বিরতিতে একটি বাস চলাচল করছে।
এদিকে সরকারিভাবে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ না হলেও অনেক রুটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্বল্প দূরত্বে ৫ থেকে ১০ টাকা এবং দূরপাল্লায় ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। এতে সাধারণ যাত্রীদের ব্যয় বেড়ে গেছে এবং চালক-যাত্রীর মধ্যে বিরোধের ঘটনাও ঘটছে।
পরিবহন মালিকরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি এবং যন্ত্রাংশের খরচ বেড়ে যাওয়ায় পরিচালন ব্যয় অনেক বেড়েছে। অন্যদিকে যাত্রীকল্যাণ সংগঠনগুলো অভিযোগ করছে, সরকারি সিদ্ধান্ত ছাড়াই ভাড়া বৃদ্ধি করে যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি জানিয়েছে, সরকারিভাবে সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া না নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত ভাড়া সমন্বয়ের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

