আজকের এই দিনটি শুধু একটি তারিখ নয়—এটি বাঙালির ইতিহাসে গভীর বেদনা, ক্ষোভ ও জাগরণের প্রতীক।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ গণহত্যা—যা ‘কালরাত্রি’ নামে পরিচিত—মানব সভ্যতার ইতিহাসে এক ভয়াবহতম হত্যাযজ্ঞের স্মারক। সেই রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অপারেশন সার্চলাইট-এর মাধ্যমে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর চালায় পরিকল্পিত গণহত্যা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, পিলখানাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বিচারে হত্যা করা হয় শিক্ষক, ছাত্র, বুদ্ধিজীবী ও সাধারণ মানুষকে।
এই বর্বরতার মধ্য দিয়েই শুরু হয় বাঙালির সশস্ত্র প্রতিরোধ, যা পরিণত হয় মহান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ-এ। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর, অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশ।
২০১৭ সালের ১১ মার্চ জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে প্রতি বছর এই দিনটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হচ্ছে। আজ রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১০টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত প্রতীকী ‘ব্ল্যাক-আউট’-এর মাধ্যমে সারা দেশ স্মরণ করবে সেই বিভীষিকাময় রাত—নিভে যাবে আলো, কিন্তু জ্বলে উঠবে স্মৃতির আগুন।
এই দিন আমাদের শুধু শোকের নয়—এটি আমাদের দায়িত্বেরও স্মারক। নতুন প্রজন্মকে জানতে হবে ইতিহাসের এই নির্মম সত্য, বুঝতে হবে স্বাধীনতার মূল্য। কারণ ইতিহাস ভুলে গেলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যায়।
শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা—
তাদের আত্মত্যাগেই আমাদের স্বাধীনতার আলো।

