দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে কয়েকটি সীমান্তবর্তী গ্রাম প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, লেবাননের তায়েবেহ, নাকুরা ও দেইর সিরিয়ানসহ একাধিক গ্রামে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ও বোমা হামলায় শত শত ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে। এসব হামলায় পুরো গ্রাম কার্যত বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসরায়েলি বাহিনী এসব এলাকায় স্থাপনাগুলোকে ‘হিজবুল্লাহর অবকাঠামো’ দাবি করে টার্গেট করেছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, অধিকাংশ ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা ছিল সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই ধ্বংসযজ্ঞকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে বলছে, বেসামরিক আবাসস্থল পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে এলাকাগুলোকে অচল করে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যাকে তারা “ডোমিসাইড” হিসেবে বর্ণনা করেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর দাবি, তারা সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং হিজবুল্লাহকে প্রতিরোধ করতে এসব অভিযান চালাচ্ছে। তবে এ অভিযানে বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ও গ্রাম ধ্বংস নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বহু পরিবার গ্রাম ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে এবং তাদের ঘরবাড়ি ও জীবিকা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। অনেকেই বলছেন, তাদের প্রজন্মের স্মৃতি ও জীবনধারা এক নিমিষেই মুছে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে চলমান সংঘাত এখন আরও বিস্তৃত ও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version