ইরান-ইসরায়েল চলমান যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে জারি করেছে বাড়তি সতর্কতা। যুদ্ধের ফুটেজ, ধ্বংসাবশেষ এবং ‘অযাচাকৃত তথ্য’ সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে আটক হচ্ছেন সংশ্লিষ্ট দেশের নাগরিক এবং প্রবাসীরা। ইতোমধ্যে কাতার, কুয়েত, বাহরাইনে আটকের খবর পাওয়া গেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে প্রথমে ইসরায়েল বিমান হামলা করে। এরপর হামলায় যোগ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ইরান পাল্টা জবাব দিতে শুরু করলে যুদ্ধের শুরু হয়। ইরানের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় তার প্রতিবেশী দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সেনা ঘাঁটিগুলো। এতে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন এবং ওমানে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা ও হতাহতে ঘটনা ঘটেছে।
যুদ্ধ শুরুর পরপরই এসব দেশ সামাজিক মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র বা শেল পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্থান কিংবা ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিও ধারণ, প্রকাশ বা প্রচার করা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশনা জারি করে। বলা হয়, এ ধরনের ছবি-ভিডিও বা ভুল তথ্য ছড়ালে জনমনে আতঙ্ক তৈরি হতে পারে এবং দেশের প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে ভুল ধারণা সৃষ্টি হতে পারে।
কাতারে আটক প্রায় দুশো
গত ৫ মার্চ কাতার নিউজ এজেন্সি জানায়, এ পর্যন্ত ১৯৪ জনকে আটক করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, চলমান ঘটনাবলীর ভিডিও ধারণ ও প্রচার, গুজব ছড়ানো এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশের অভিযোগে তাদেরকে আটক করা হয়েছে। ১৯৪ জনের মধ্যে নানা দেশের নাগরিক রয়েছেন।
খবরটিতে বলা হয়, “মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তথ্য জানতে হলে শুধু সরকারি বা নির্ভরযোগ্য সূত্রের ওপর নির্ভর করতে হবে। বিভ্রান্তিকর তথ্য বা জনমত উসকে দিতে পারে, এমন কোনো কনটেন্ট প্রচার বা শেয়ার না করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।”
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, কেউ এ ধরনের কাজ করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে তারা দ্বিধা করবে না।
এদিকে ৭ মার্চ আরেকজনকে আটক করেছে কাতার। দেশটির অপরাধ তদন্ত অধিদপ্তরের অধীনে অর্থনৈতিক ও সাইবার অপরাধ দমন বিভাগ এসব কার্যক্রম পরিচালনা করে। সেখানে বলা হয়, “কাতারের জেনারেল ডিরেক্টরেট অব ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশনের অধীন ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাতার রাষ্ট্র ও এর প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে সরাসরি অপমানজনক মন্তব্য প্রকাশের অভিযোগে এক আরব নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে।”


