১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
|
পূর্বাহ্ণ ০৪:৫৮, ৩০ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উঁচু জোয়ারের পানি আর খানাখন্দে ভরা গ্রামীণ পথ আটকে দিয়েছিল দৈনন্দিন চলাচল। বাধ্য হয়ে নিজেদের পকেটের টাকায় ৫০ ফুটের একটি বাঁশের সাঁকো গড়ে তোলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।তবে সেই সাঁকো পারাপারের জন্য আয়োজন করা হয় মহাসমারোহের। লাল ফিতা কেটে কায়দা করে সাঁকোটির উদ্বোধন করেন স্থানীয় এক বিএনপি নেতা। এরপরই মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার ঝড় ওঠে, নেটদুনিয়ায় শুরু হয় ট্রল ও হাস্যরসের জোয়ার।

ঘটনাটি বরিশালের উজিরপুর পৌরসভার মাহার এলাকার। জানা গেছে, খালের উত্তর পাড়ের ইট বিছানো (হেরিংবোন) পথটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল। বর্ষা কিংবা জোয়ারের পানিতে সড়ক তলিয়ে গিয়ে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো স্থানীয় জেলে ও সাধারণ মানুষকে। ভোগান্তি থেকে নিস্তার পেতে স্থানীয়রাই নিজেদের অর্থায়নে বাঁশ ও সুপারিগাছ দিয়ে তৈরি করেন ৫০ ফুট দীর্ঘ এই সাঁকো।

বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) বিকেলে ঘটে মূল ঘটনা। কিন্তু ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে শুক্র‍বার (০৭ আগস্ট) রাতে।সাঁকোটি উন্মুক্ত করার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন উজিরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম খান। সেখানে সাঁকোর মুখে লাল ফিতা টানিয়ে কাঁচি দিয়ে তা কাটার একটি দৃশ্য ধারণ করা হয়।

ভিডিওতে এক বাউলশিল্পীকে সাঁকোর ওপর দাঁড়িয়ে স্বরচিত গান পরিবেশন করতেও দেখা যায়। পরে এক সমর্থক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভিডিওটি পোস্ট করতেই তা বিদ্যুৎবেগে ছড়িয়ে পড়ে।

মুহূর্তেই তা নেটিজেনদের বিনোদনের খোরাকে পরিণত হয়। একজন কটাক্ষ করে মন্তব্য করেন, ‘এই উদ্বোধন তো পদ্মা সেতুর উদ্বোধনকেও হার মানালো।’ অন্য এক নেটিজেন লেখেন, ‘পাকা রাস্তার ওপর বাঁশের ফিতাকাটা ফ্লাইওভার।’

​ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে পৌর বিএনপি নেতা শহিদুল ইসলাম খান বলেন, ‘স্থানীয়দের উদ্যোগে তৈরি সাঁকোটি উদ্বোধন করতে পেরে আমি আনন্দিত। সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্যই এটি করা হয়েছে।’

তবে বিষয়টি নিয়ে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে স্থানীয় বিএনপি নেতৃত্ব। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, জনসাধারণের সুবিধার জন্য সাঁকো নির্মাণ প্রশংসা পাওয়ার মতো কাজ হলেও, ফিতা কেটে এ ধরনের আড়ম্বরপূর্ণ উদ্বোধনী আয়োজন হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। একজন দায়িত্বশীল নেতার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version