সম্প্রতি ‘ইসলামিক প্র্যাকটিস অ্যান্ড দাওয়াহ সার্কেল’ (IPDC)-এর আয়োজনে ‘লিগ্যাসি অব ফেইথ’ নামক একটি সিরিজ আলোচনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে অস্ট্রেলিয়ায় আমন্ত্রিত হয়েছিলেন বাংলাদেশের দুই জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী ও শায়খ আহমাদুল্লাহর।

দেশটিতে পৌঁছানোর কয়েকদিনের মাথায় গত ৩১ মার্চ মিজানুর রহমান আজহারীর ভিসা বাতিল করে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া সরকার। অন্যদিকে, ৬ এপ্রিল শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসাও বাতিল করা হয়, যার ফলে তার অস্ট্রেলিয়া যাওয়াই আটকে যায়। পরবর্তীতে ফেসবুকে ব্যক্তিগত পোস্টের মাধ্যমে তারা উভয়ে ভিসা বাতিলের বিষয়টি জানালে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।

কেন তাদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে সে বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ান এবং ব্রিটিশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রতিবেদনের তথ্য মতে, উভয়ের ক্ষেত্রেই তাদের পুরনো কিছু বক্তব্যকে– যেগুলোকে ‘ইহুদীবিদ্বেষী’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে– ভিসা বাতিলের পেছনের কারণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

তবে বিবিসি বাংলাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ভিসা বাতিল বিষয়ক অস্ট্রেলিয়ান ইমিগ্রেশন বিভাগের পাঠানো ইমেইলে তেমন স্পষ্ট কোন কারণ তাকে জানানো হয়নি।

পেছনে সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্ক
মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুই জনের ভিসা বাতিলের ঘটনাটি অস্ট্রেলিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের একটি নিয়মিত আইনি পদক্ষেপ মনে হলেও, অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায় এর পেছনে কাজ করেছে ‘অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেশন ফর এথনিক অ্যান্ড রিলিজিয়াস মাইনরিটিজ ইন বাংলাদেশ’ (AFERMB) নামের একটি সংগঠন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিনেই অস্ট্রেলিয়ায় নিবন্ধিত এই সংগঠনটি আজহারী ও আহমাদুল্লাহর ভিসা বাতিলের ক্ষেত্রে তথ্যদাতা হিসেবে কাজ করেছে।

সংগঠনটি কেবল এই দুই বক্তার ভিসা বাতিলের ক্ষেত্রেই নয়, বরং জাতিসংঘ ও অস্ট্রেলিয়ান পার্লামেন্টে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ‘মানবাধিকার পরিস্থিতি’ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ‘তথ্য-উপাত্ত’ সরবরাহ করে আসছে বলে তাদের ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে।

সংগঠনটির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও প্রকাশনা বিভাগ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তারা তাদের অধিকাংশ ‘তথ্য-উপাত্ত’ মূলত বাংলাদেশের হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের রিপোর্ট ও পরিসংখ্যান থেকে সংগ্রহ করে থাকে।

দ্য ডিসেন্ট-এর বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, সংগঠনটি তাদের ফেসবুক পেজে এমন সব কন্টেন্ট প্রচার করে যেগুলোতে ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর দুর্নীতি এবং সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত বাংলাদেশি ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গৃহীত আইনি পদক্ষেপকে ‘সাম্প্রদায়িক নিপীড়ন’ রূপে উপস্থাপন করা হয়।

এছাড়া, AFERMB নামক সংগঠনটির সাথে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সংগঠনটির শীর্ষ নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এবং অস্ট্রেলিয়ায় আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু কাউন্সিলের শীর্ষ পদধারী ব্যক্তিরা।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version